ইতালিতে বৈধতা পাওয়ার নিয়ম কানুন

103

পিবি ডেস্কঃ আশির দশকের শেষ দিকে ইউরোপে আসা বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিরাপদ আবাস্থল হয়ে ওঠে ইতালি। ইউরোপের বহু দেশে পড়তে বা ভ্রমণে এসে দেশে না ফিরতে চাইলে পথ খুঁচতে হবে থেকে যাওয়ার। রাজনৈতিক আশ্রয় কিংবা শারীরিক সমস্যা; দুই উপায়ের কোনো একটিকে বেছে নিতে হতো ইউরোপে থাকার জন্য। কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তা মঞ্জুর হতো। নিজেকে মিথ্যা অসুস্থ প্রমাণ করা যায় না, তাই পথ রাজনৈতিক আশ্রয়।

প্রথম দিকে কিছু কিছু রাজনৈতিক আশ্রয়ের অনুমতি দেয়া হলেও পরে তা যাচাই করা হয়। ঢাকায় দূতাবাসের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থা যাচাই করা হত। এতে বেশিরভাগ আবেদনই মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে খারিজ হয়ে যেত।

কারণ, আবেদনকারী বাংলাদেশে কখনো সত্যিকার রাজনৈতিক সমস্যায় পড়েননি। মানবাধিকারের দেশগুলো আপিলের ব্যবস্থা রাখায় পরপর আপিল করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দুই থেকে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় লাগতো। কখনো কখনো তা ১০ থেকে ১২ বছরের বেশি সময় লাগতো।

ইতালিতে অবৈধদের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা হবার পর ইউরোপের অন্যসব দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পাড়ি দেয়। ১৯৮৬ সালের থেকে ইতালি ঢালাওভাবে অবৈধদের বৈধতা দেওয়া শুরু করে। ইতালির রেসিডেন্স পারমিট তুলনামূলক মান সম্পন্ন হওয়ায় সবার গন্তব্যের প্রধান আকর্ষণ স্থলে পরিণত হয় ইতালি।

এবার করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার ঘোষণা এসেছে। গেজেট প্রকাশিত হয়েছে ১ জুন। কাজের ঘোষণার মাধ্যমে আবেদন জমা হবে অথবা ৬ মাসের কাজ খুঁজতে সোজর্ন (রেসিডেন্স পারমিট) পাবার জন্য আবেদন জমা শুরু হয়েছে।

আবেদন করার নিয়ম:

ইতালীতে চলতি বছরের ৮ মার্চ এর পূর্বে এসেছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে বা নিজের স্বীকারোক্তি দিতে হবে। যার অধীনে কাজ করবেন তাকে অবৈধ কর্মীকে বৈধ করার ঘোষণার আবেদন অনলাইনে (https://nullaostalavoro.dlci.interno.it/ ) জমা দিবেন প্রেফেত্তোরা অনলাইন আবেদনের পূর্বে ৫০০ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা  F24 ফর্মে পোষ্ট অফিসে অথবা ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন পত্র অনলাইনে জমা করতে ১৬ ইউরোর রেভিনিউ দিতে হবে এবং টিকেটের নাম্বার অনলাইনে আবেদন সাথে  ফরমে লিখতে হবে।

আবেদনের জন্য অবশ্যই পাসপোর্ট নাম্বার ও কপি লাগবে। না থাকলে দূতাবাস হতে ছবি নাম জন্ম তারিখসহ ডিক্লেয়ারেশন সংগ্রহ করে দিতে হবে।

পরবর্তিতে দেশটির স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় অফিস কাজ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি (মালিক) ও শ্রমিককে আহ্বান করবে ও কিছু কাগজপত্রে সাক্ষর করবে হবে। সেখানে থেকে রেডি করে দেয়া ফর্ম সংগ্রহ করে তাতে ১৬ ইউরোর ডাক টিকেট লাগিয়ে পোস্ট গিয়ে ৩০ ইউরো ফি দিয়ে থানা বরাবার পাঠাতে হবে।

যেসব কাজের জন্য আবেদন করা যাবে:
এ প্রক্রিয়ায় কৃষি জমিতে, কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত সকল কারখানা ও সরবরাহ ক্ষেত্রে কাজের জন্য আবেদন করা যাবে। এই খাতে সরকার ২ লাখ ২০ হাজার জনবল নিতে চায়। কিন্তু বেশি হলেও নেয়া হবে।

বাসা বাড়ির কাজ বা বয়স্কদের সেবামূলক কাজ করার জন্য আবেদন করা যাবে। তবে এটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, যিনি মালিক তিনি যদি একক মালিক হন এবং তার পরিবার না থাকে তাহলে তার ২০১৯ সালের আয় কমপক্ষে ২০ হাজার ইউরো হতে হবে। পরিবার থাকলে কমপক্ষে ২০১৯ সালের আয় ২৭ হাজার ইউরো থাকতে হবে।

এছাড়া বর্তমানে বেকার ও অবৈধ হয়ে যাওয়ারা কাজ খুঁজতে ৬ রেসিডেন্ট পারমিট পাবেন। গত ৮ মার্চের আগে ইতালিতে এসেছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে। এছাড়া চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তার কাজের ব্যবস্থা ছিল বা বর্তমানে কাজে রয়েছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে।

এই শ্রেণিতে যারা আবেদন করতে চান তারা গেল ১ জুন হতে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সরাসরি পোষ্ট অফিস হতে আবেদনের ফরম সংগ্রহ করে  তা পুরণ করে জমা দিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে তার  পাসপোর্টের নাম্বার ও কপি লাগবে। না থাকলে দূতাবাস হতে ছবি নাম জন্ম তারিখসহ ডিক্লেয়ারেশন সংগ্রহ করতে হবে।

আবেদনের পূর্বে  ১৩০  ইউরো সরকারের তহবিলে  F24 ফর্ম মাধ্যমে পোষ্ট অফিসে অথবা  ব্যাংকে পরিশোধ করতে হবে। সোজর্ন ফরম কিট রেডি করে  পূর্বের মতো একই প্রক্রিয়ায় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে থানা বরাবর পাঠাতে হবে। আবেদনের সর্বমোট খরচ হবে ১৭৬ ইউরো।

পরবর্তীতে ৬ মাসের মধ্যে নতুন কাজ খুঁজে স্বাভাবিক স্টে পারমিট গ্রহণ করতে পারবে। কাজের চুক্তির সময়ের ওপর নির্ভর করে স্টে পারমিট দেওয়া হবে।

তবে মালিকের একক আয় ২০ হাজার ইউরো আর মালিকের পারিবারিক আয় ২৭ হাজার ইউরো কিছুটা কঠিন ইতালিতে। বাসার কাজ হলে মালিকের বাসাও নিজ নামে ক্রয় বা ভাড়ায় থাকতে হবে। এসব জটিলতার জন্য বৈধকরণে আবেদন পত্র জমা পড়ছে কম।

পিবি/বি

Facebook Comments