করোনা লড়াইয়ে পথ দেখাচ্ছে নারী নেতৃত্বের দেশগুলো

39

পিবি ডেস্কঃ সারা বিশ্ব কাঁপছে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে। দেশে দেশে মৃত্যুর মিছিল শুধুই দীর্ঘ হচ্ছে। আর আক্রান্তে সংখ্যাা বেড়ে আকাশচুম্বী লম্বা সারি হচ্ছে। যার কারণে দেশে দেশে লকডাউনের সময়সীমা শুধু বাড়ানো হচ্ছে।

এ আতঙ্ক কবে কাটবে তার কোনো সদুত্তর আসছে না স্বাস্থ্য নিয়ে নেতৃত্ব দেয়া কোনো সংস্থার কাছ থেকেই। পরিস্থিতি ক্রমশই মানুষকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ করোনা ভাইরাসের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিও চরমভাবে ভেঙে পড়ছে। আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে মহামন্দার। তবে এত খারাপ সংবাদের মধ্যে কিছু দেশ আছে যেখানে করোনা তার ভয়াল থাবা ততটাও বসাতে পারেনি। তার মানে বলা চলে না যে সেদেশগুলো সফল। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় সেদেশগুলোর পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সেদেশের নেয়া সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।

দেশগুলো হলো তাইওয়ান, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ড। করোনার ভয়াল থাবাতে গ্রাস করতে পারেনি এ দেশগুলোকে। এর কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশগুলো প্রথমেই তাদের সিদ্ধান্ত ভালো নিয়েছিল। আর এই দেশগুলো নারী নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ বিষয়ে নিউজল্যান্ডারি নামের অনলাইন পোর্টালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। যার শিরোনামে বলা হয়েছে বিশ্ব করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে যেখানে পথ দেখাচ্ছে নারী নেতৃত্ব।

দেশগুলো বিভিন্ন প্রান্তের। একটি ইউরোপের, একটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয়, আরেকটি এশিয়ার। এই ভিন্নতা থাকলেও তিন দেশের মধ্যে একটা বিষয়ে মিল আছে। আর তা হলো, তিনটি দেশেই সরকারপ্রধান একজন করে নারী। সারা বিশ্বের সরকারপ্রধানদের ৭ শতাংশের কম নারী শাসকেরা। এই দেশগুলোর মতো আরেক গণতান্ত্রিক দেশ তাইওয়ান। দেশটির নারী প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন যখন শুনলেন চীনে এক রহস্যজনক ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়েছে তখনই উহান থেকে আসা সব উড়োজাহাজের যাত্রীর কঠোর স্ক্রিনিং হলো। দ্রুতই এ দেশে মহামারি সেন্টার স্থাপিত হলো, উৎপাদন হতে শুরু হলো ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম। চীন, ম্যাকাও ও হংকং থেকে বিমান পরিবহনে বিধিনিষেধ জারি হলো। করোনাভাইরাসে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের দেশ তাইওয়ানে এযাবৎ আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৩৯৩। মৃতের সংখ্যা ৬।

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জার্মানির সাফল্যের কারণ কী? হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান হ্যানস গিওর্গ উসিলেস নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যুক্তিসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই জার্মানির বড় শক্তি।’

পর্যটনের ওপর অর্থনীতির অনেকটা নির্ভর থাকলেও একে বন্ধ করে দিতে কসুর করেননি দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ্যারডার্ন। আর এর ফলও পেয়েছেন।

নরডিক পাঁচ দেশের মধ্যে চারটিই নারীশাসিত। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এসব দেশে মৃত্যুহার অনেক কম। ৫৫ লাখ মানুষের দেশ ফিনল্যান্ডের ৩৪ বছর বয়সী নারী প্রধানমন্ত্রী সান্না মেরিন বিশ্বনেতাদের মধ্যে কনিষ্ঠতম। করোনা প্রতিরোধে তাঁর নেওয়া ব্যবস্থায় খুশি দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৯।

আইসল্যান্ডের নারী প্রধানমন্ত্রী ক্যাটরিন জ্যাকবসডোটির। দ্বীপরাষ্ট্রটির বাসিন্দা মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার। কিন্তু ব্যাপক হারে এ দেশটি করোনার টেস্ট করিয়েছে। এই নরডিক দেশগুলোর মাত্র একটি সুইডেনের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লে ফেন। তিনি প্রথমে লকডাউন দিতে রাজি হননি। শুরুতে দেশটির মৃত্যুহার ব্যাপক হয়েছিল।

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের হিসাব, বিশ্বের ১৫২টি রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ১০ দেশের সরকারপ্রধান নারী। বিশ্বের ৭৫ শতাংশ সাংসদ পুরুষ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মতো ব্যবস্থাপক পর্যায়ে পুরুষের সংখ্যা ৭৩ শতাংশ, মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ৭৬ শতাংশই পুরুষ।

এখনই বলা সম্ভব নয়, বলা উচিতও না যে কোন দেশ করোনার লড়াইয়ে জিতল, কে হারল। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, করোনার বিরুদ্ধে লড়তে দ্রুত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নারী সরকারপ্রধানেরা অনেক বেশি দক্ষতা দেখিয়েছেন। যেখানে পুরুষ প্রধান সরকার ব্যবস্থা সেই পথ দেখাতে পারেননি।

করোনা সংক্রমণের একেবারে শুরুতেই ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছিল তাইওয়ান। এর ফলে চীনের পাশের দেশটিতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ তেমন ঘটেনি। এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মাস্ক রপ্তানি করছে তাইওয়ান। ইউরোপের যে দেশটিতে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষের করোনাভাইরাসের টেস্ট করা হয়েছে, তার নাম জার্মানি। প্রতি সপ্তাহে দেশটিতে সাড়ে তিন লাখ টেস্ট হয়েছে। খুব কার্যকরভাবে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে দেশটিতে। চিকিৎসাও চলছে ভালোভাবে। নিউজিল্যান্ড করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরুর একেবারে শুরুতে পর্যটন বন্ধ করে দেয়। মাসব্যাপী পুরো দেশ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা নয়।

সূত্র: নিউজল্যান্ডারি

পিবি/ব

Facebook Comments