সালমা-জাহানারাদের গল্প

87

পিবি ডেস্কঃ ২০১৮ নারী এশিয়া কাপের কথা। আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে সালমা খাতুনের হাত ধরে জন্ম নেয় এক নতুন অধ্যায়। সর্বোচ্চ সুবিধা পেয়েও সাফল্যের যে মুকুট মাথায় তুলতে পারেনি বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল, অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ সুবিধায় সেই গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যা কি’না এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন।

কুয়ালালামপুরের শেষ বিকেলে তখন সোনালী রোদ্দুরের আভা। তাতে সিক্ত হওয়ার হাতছানি সালমা জাহানারার। হারমানপ্রিত করে চ্যালেঞ্জ বদলে দিচ্ছিল দৃশ্যপট। তবে শেষ বলে বাজিমাত জাহানারার। ভারত হারায় ১৪ বছরের মসনদ। অভূতপূর্ব অর্জনে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেয় টাইগ্রেসরা।

এক সপ্তাহ আগেও যখন এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ে আঞ্জু জৈনর দল, তাদের পক্ষে বাজি ধরার লোকের ছিলো বড্ড অভাব। অথচ নানা সুযোগ সুবিধার বাইরে থাকা দলটাই সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। একটা শিরোপার জন্য হাঁসফাঁস করা বিসিবি পায় শোকেজ অলংকরণের উপকরণ।

হার দিয়ে আসর শুরু করা টাইগ্রেসরা মূলত বদলে গিয়েছিলো নবম রাউন্ডের পর। এশিয়ার পরাশক্তিরা যে অজেয় নয়, তার প্রমাণ দিয়ে সেই আত্মবিশ্বাস নিগার সুলতানা রুমানাদের মনে জন্মেছিলো সেদিনই। এরপর পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ছিলো এগিয়ে চলার পালা। যেটা শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছে সফলতার স্বর্ণ শিখরে।

দিনটা বাংলাদেশের হবে বলেই হয়তো টস ভাগ্যটা ছিলো পক্ষে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনার দুয়ার খোলে কুবরা-সালমারা। তাদের তোপে কোণঠাসা ভারতের ব্যাটসম্যানরা একে একে যোগ দিয়েছেন ব্যর্থতার মিছিলে। তবুও হারমানপ্রিতের দৃঢ়তায় তাদের স্কোর বোর্ডে উঠে ১১২ রান।

২০ ওভারের ক্রিকেটে সংগ্রহটা নিতান্তই ছোট। লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুটাও দারুণ ছিলো শামীমা আর আয়েশার। তবে এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো দলটি নাস্তানাবুদ হতে থাকে মানসিক চাপের কাছে। আর তাই হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচও বের হয়ে যেতে চায় হতাশার চাদর পড়িয়ে।

এই ম্যাচটা সহজ ছিলো না। হয়তো ফাইনাল বলেই ছোট সংগ্রহে ছিলো সু-উচ্চ ছায়া। তবে মালয়েশিয়া তো বাংলার ক্রিকেটের সৌভাগ্য-স্থল! সেখান থেকে খালি হাতে ফেরাটা বড্ড বেমানান লাগে। তাই হয়ত সালমারাও ফিরেনি মাথা নত করে। দম বন্ধ হয়ে যাওয়া এক ম্যাচে বুক ভরা শ্বাস নিয়েই তারা ফিরেছিলো বীরের বেশে।

পিবি/ব

Facebook Comments